‘পিশাচ > পিচাশ’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: ধ্বনি বিপর্যয়
ভুল বা সঠিক হলে সাথে সাথেই ব্যাখ্যা সহ উত্তর দেখতে পারবেন।
নিম্নবিবৃত স্বরধ্বনি কোনটি?
আ ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান হয় সব থেকে নিম্নে হয়। তাই নিম্ন বিবৃত স্বরধ্বনি বলে।
বাংলা ব্যাকরণ বিষয়ে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
১০ মার্কের MCQ কুইজএই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
• ‘পিশাচ > পিচাশ’ ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ।
----------------------------
• ধ্বনি বিপর্যয়:
- উচ্চারণকে সহজ করা বা কথ্য ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্য কখনো কখনো একটি শব্দের ভেতরে পাশাপাশি থাকা দুইটি ব্যঞ্জনধ্বনি নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলে।
- এই অবস্থান-বদলের ঘটনাকেই ধ্বনি বিপর্যয় (Metathesis) বলা হয়।
- এটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি ধরন।
- যেমন- ‘পিশাচ > পিচাশ’।
- ‘পিশাচ’ শব্দে শ ও চ ধ্বনি স্থান অদলবদল করে ‘পিচাশ’ হয়েছে।
- একইভাবে কথ্য বা আঞ্চলিক ব্যবহারে কিছু উদাহরণে দেখা যায়, উচ্চারণ সহজ করতে ধ্বনির স্থান বদলে শব্দের রূপ পাল্টে গেছে।
- যেমন-
- বাকস > বাস্ক,
- রিকশা > রিস্কা,
- লাফ > ফাল,
- তর্ক > তক্ক,
- মুকুট > মুটুক ইত্যাদি।
------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• অন্তর্হতি:
- অন্তর্হতি হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এখানে কোনো শব্দের মাঝখানে থাকা একটি ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সুবিধার জন্য লোপ পায় বা বাদ পড়ে যায়।
- ফলে শব্দটি সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে উচ্চারিত হয়।
- যেমন-
- ফাল্গুন > ফাগুন (এখানে মাঝখানের ‘ল’ ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেয়েছে)।
- ফলাহার > ফলার (এখানে ‘হা’ ধ্বনি অংশটি লোপ পেয়েছে)।
- আলাহিদা > আলাদা (এখানে মধ্যবর্তী ‘হি’ ধ্বনি লোপ পেয়েছে)।
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- ব্যঞ্জন বিকৃতি হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এখানে কোনো শব্দের ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ না পেয়ে অন্য একটি ব্যঞ্জনধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়।
- সাধারণত পাশের ধ্বনির প্রভাব বা উচ্চারণের সুবিধার কারণে এই পরিবর্তন ঘটে।
- ফলে শব্দটির গঠন বদলে গেলেও মূল শব্দটি টিকে থাকে, শুধু ব্যঞ্জনধ্বনিটি বিকৃত রূপ ধারণ করে।
- যেমন-
- কবাট > কপাট (এখানে ব → প ব্যঞ্জন পরিবর্তন হয়েছে)।
- ধোবা > ধোপা (এখানে ব → প ব্যঞ্জন পরিবর্তন হয়েছে)।
• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- ব্যঞ্জনচ্যুতি বা সমাক্ষর লোপ হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দের ভেতরে পাশাপাশি উচ্চারিত একই বা সমজাতীয় দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তাদের মধ্যে একটি ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাদ পড়ে যায়।
- সাধারণত দ্রুত কথা বলা বা উচ্চারণ সহজ করার জন্য এই পরিবর্তন ঘটে।
- ফলে শব্দটি সংক্ষিপ্ত হয়, কিন্তু অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- যেমন-
- বড়দাদা > বড়দা,
- ছোটকাকা > ছোটকা,
- বউদিদি > বউদি।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
রেফারেন্স মাত্র
বাংলা ব্যাকরণ বিষয়ের আরও প্রশ্ন