শক্তি সম্পদ: - কোনো কাজ সম্পন্ন করার ক্ষমতাকে শক্তি বলে। - শক্তি দুই প্রকার হয়ে থাকে। যথা- (১) জড়শক্তি বা অচেতন শক্তি: - জড়শক্তি ব্যবহারের পর হতেই মানুষের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নতি চালু হয়। - অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ হতে যুক্তরাজ্যে খনিজ তেল, কয়লা প্রভৃতি জড়শক্তি আবিষ্কারের পর হতে যন্ত্রশিল্পের প্রচলন হয়। - আরম্ভ হয় শিল্প সভ্যতা যা বর্তমান যুগে যন্ত্রযুগ নামে পরিচিত। - শক্তি উৎসের উৎপত্তি অনুসারে শক্তি সম্পদকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ক। প্রচলিত শক্তির উৎস: - যন্ত্রকে চালাতে দরকার হয় শক্তির যার প্রধান উৎস হলো খনিজ তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি শক্তিগুলো মানব সভ্যতার প্রধান শক্তির উৎস যাকে বলা হয় চিরাচরিত বা প্রচলিত শক্তি।
খ। অপ্রচলিত শক্তির উৎস: - আণবিক শক্তি, সৌরশক্তি, ভূ-তাপ শক্তি, জোয়ার-ভাঁটার শক্তি, জৈবগ্যাস শক্তি ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলো হলো অচিরাচরিত বা অপ্রচলিত শক্তি।
(২) জৈব শক্তি বা চেতন শক্তি: - জৈব শক্তি বা চেতন শক্তি জীবন্ত পদার্থের মাধ্যমে সৃষ্ট শক্তি, আর জড়শক্তি বা অচেতন শক্তি হলো প্রাণহীন পদার্থ থেকে সৃষ্ট শক্তি। - গরু, ঘোড়া, উট, হাতি, বল্লাহরিণ প্রভৃতি প্রাণীকে কাজে লাগিয়ে যে শক্তি তৈরি হয় তাকে জৈব শক্তি বলে। - মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ইত্যাদিও এক প্রকার শক্তি যা এক প্রকার মানসিক বা চেতন শক্তি, এটি সবচেয়ে বেশি উন্নত শক্তি। - মানুষ তার এই শক্তির দ্বারা খনি থেকে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি জড় পদার্থ হতে জড়শক্তি সৃষ্টি করে, এ শক্তির মধ্যে কোনো জীবনের অস্তিত্ব নেই।