পল্লীকবি জসীম উদদীন
- বাংলা সাহিত্যে জসীম উদদীন বহুমুখী আধুনিক ব্যক্তিত্ব।
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
♦♦ সাহিত্যকর্ম
- তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ পর্যন্ত, দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে লোক সাহিত্য সংগ্রাহক হিসেবে জসীম উদ্দীন কাজ করেন।
- তিনি পূর্ব বঙ্গ গীতিকার একজন সংগ্রাহকও।
- জসীমউদ্দীন জারীগান ও মুর্শীদা গান নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।
♦ গান
- আমার সোনার ময়না পাখি,
- আমার হাড় কালা করলাম রে,
- আমায় ভাসাইলি রে,
- আমায় এতো রাতে,
- নদীর কূল নাই কিনার নাই,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে, রে ভোমরা ইত্যাদি।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- রাখালী কাব্যে ১৯টি কবিতা রয়েছে।
♦ 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের।
♦ কবর
- ১৯২৫ সালে এই কবিতাটি প্রথম কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি কবির ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর 'কবর' কবিতাটি প্রবেশিকা(এস.এস.সি) বাংলা পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এই কাহিনী-কাব্যটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত ‘ড্রামাটিক মনোলগ’।
- এ কবিতার চরণ সংখ্যা ১১৮।
- কবিতায় এক বৃদ্ধ তার নাতিকে পাঁচজন স্বজন হারানোর ব্যথা এক এক করে বর্ণনা করেছেন। তারা হলো: বৃদ্ধের স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ, নাতনী ও মেয়ে।
♦ কাব্যগ্রন্থ
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।
♦ নাটক
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ ইত্যাদি।
♦ আত্মকথা
- যাদের দেখেছি ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।
♦ ভ্রমণ কাহিনী
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. বিবিসি বাংলা,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. বাংলাপিডিয়া।