• তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। - তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস: যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: - ধানের খেত = ধানখেত; - ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা; - বঙ্গকে ভঙ্গ = বঙ্গভঙ্গ; - গাকে ঢাকা = গা-ঢাকা; - জ্ঞানকে অর্জন = জ্ঞানার্জন; - মনকে পাওয়া = মনপাওয়া ইত্যাদি।
------------------------------ অন্যদিকে, • কর্মধারয় সমাস: বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, - যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
• বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।
• দ্বন্দ্ব সমাস: সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: - মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; - ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।