ফ্যাসীবাদ: - ১৯২২ সালে ইতালীতে বেনিতো মুসোলিনীর নেতৃত্বে যে শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল তাকেই মূলত ফ্যাসীবাদ বলে চিহ্নিত করা হয়। - ব্যাপক অর্থে ইউরোপে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যকালীন সময়ে যে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র বিরোধী রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তাকে ফ্যাসীবাদ বলা হয়। - ১৯৩৩ সালে জার্মানীতে হিটলারের নেতৃত্বে যে নাগদীবাদ National Socialium সৃষ্টি হয়েছিল তাকেও এই অভিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
⇒ ফ্যাসীবাদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি একটি সর্বাত্মক্তবাদী ব্যবস্থা। - এর অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে একটি শাসক গোষ্ঠী। - তারা সমাজ জীবনকেও নিয়ন্ত্রিত করে।
⇒ এর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নেতৃত্বের নীতি। - ফ্যাসীবাদে নেতার অনুসারীদের উপর সীমাহীন কর্তৃত্ব থাকে। - অনুসারীরা অন্ধভাবে নেতার কর্তৃত্বকে স্বীকার করে নেয়। - ফ্যাসীবাদের জোর থাকে নেতা এবং জনগনের মধ্যে সরাসরি এবং গভীর বন্ধনের উপর।
⇒ এর তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কোন বিরোধিতা সহ্য করা হয় না। - যে কোন বিশ্লেধিতাকে নির্মূল করা হয়।
⇒ এর চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ফ্যাসীবাদ একটি নতুন সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টির দাবী তুলে ধরে। - এই ধরনের ব্যবস্থায় কোন শ্রেণীসংগ্রাম বা ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সংঘাত থাকবে না। - সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজ করবে ঐক্য।
⇒ ফ্যাসীবাদের পঞ্চম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি কর্তৃত্ববাদ ও অসমতার উপর প্রতিষ্ঠিত। - বর্ণবাদ, নারী- পুরুষের অসমতা ও সামাজিক অসমতার উপর সৃষ্টি হয় বলে এটি বাক্তি স্বাধীনতা, সম অধিকার ও ব্যক্তি-অধিকারকে স্বীকার করে না। - ফলে এটি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র বিরোধী।
উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।