• ভ্রান্তিবশত (ক্রিয়া বিশেষণ পদ), - এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। অর্থ: - ভুলের কারণে, - ভুলক্রমে।
----------------------- • ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ: - ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়। - লোকটি ধীরে হাঁটে। এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।
- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়। যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।
ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: • ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে। যেমন: - টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। যেমন: - যথাসময়ে সে হাজির হয়। - আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। যেমন: - মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। যেমন: - তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না। - তিনি বেড়াতে যাননি। - এমন কথা আমার জানা নেই।
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন: - আমি কি যাব? - খুব যে বলেছিলেন আসবেন! - কখনো বা দেখা হবে। - একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে। - মরি তো মরব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।