'ভারত, ভারত খ্যাত আপনার গুণে' উক্ত চরণে কোন অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে?
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: যমক
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: যমক
ভুল বা সঠিক হলে সাথে সাথেই ব্যাখ্যা সহ উত্তর দেখতে পারবেন।
রুখের তেন্তলি কুমীরে খাই’- এর অর্থ কি?
চর্যাপদের মহিলা কবি কুকুরীপা কর্তৃক রচিত ২ নং পদ “দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই। রুখের তেগুলি কুম্ভীরে খাঅ॥” এর বাংলা অর্থ হলো: কচ্ছপকে দোহন করা দুগ্ধ পাত্রে ধরে না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়৷
বাংলা বিষয়ে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
১০ মার্কের MCQ কুইজএই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
• “ভারত, ভারত খ্যাত আপনার গুণে।”- উক্ত চরণে 'যমক' অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে।
----------
• যমক:
- একই শব্দ একই স্বরধ্বনিসমেত একই ক্রমানুসারে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে একাধিকবার ব্যবহৃত হলে তাকে যমক অলঙ্কার বলে।
- যমক শব্দের অর্থ যুগ্ম।
- এতে একই শব্দ বা প্রায় এক রকমের উচ্চার্য শব্দ দু বার বা বেশি বার উচ্চারিত হয়।
- শব্দের অর্থও আলাদা হতে হবে।
- যেমন:
- মাটির ভয়ে রাজ্য হবে মাটি/দিবস রাতি রহিলে আমি বন্ধ।
- ভারত ভারত খ্যাত আপনার গুণে।
----------
অন্যদিকে,
• শ্লেষ:
- একটি শব্দ একবার মাত্র ব্যবহৃত হয়ে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করলে তাকে শ্লেষ অলঙ্কার বলে।
- যেমন:
- কে বলে ঈশ্বর গুপ্ত ব্যাপ্ত চরাচর, যাহার প্রভায় প্রভা পায় প্রভাকর।
- এখানে সমগ্র বাক্যের দুটি অর্থ।
- এক অর্থে ঈশ্বর চরাচরে ব্যাপ্ত, তাঁর আলোকে সূর্য আলোকিত হয়।
- অন্য অর্থে যাঁর প্রতিভায় 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত হয় সেই ঈশ্বর গুপ্তকে অখ্যাতনামা কে বলবে? তাঁর খ্যাতি চরাচরে ব্যাপ্ত। এটা শ্লেষ অলঙ্কার।
- যেমন:
- আছিলাম একাকিনী বসিয়া কাননে।/আনিলা তোমার স্বামী বাঁধি নিজ গুণে।।
- এখানে 'গুণে' অর্থ ১. ধনুকের ছিলায়, ২. স্বভাবের উৎকর্ষে।
• উপমা:
- একই বাক্যে সাধারণ ধর্মবিশিষ্ট দুই ভিন্ন জাতীয় পদার্থের মধ্যে সাদৃশ্য কল্পনা করা হলে তাকে উপমা বলে।
- যেমন: পদ্মের কলিকাসম/ক্ষুদ্র তব মুষ্টিখানি।
- উপমার চারটি অঙ্গ-
১. উপমেয়: যাকে তুলনা করা হয়।
২. উপমান: যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
৩. সাধারণ ধর্ম: যে বৈশিষ্ট্যের জন্য তুলনা দেওয়া হয়।
8. সাদৃশ্যবাচক শব্দ: মত, সম, হেন, সদৃশ, প্রায় ইত্যাদি।
- দৃষ্টান্ত: 'পদ্মের কলিকাসম ক্ষুদ্র তব মুষ্টিখানি।'-এ বাক্যে উপমেয়-মুষ্টি; উপমান-পদ্মের কলিকা, সাধারণ ধর্ম-ক্ষুদ্র: সাদৃশ্যমূলক শব্দ-সম।
• বক্রোক্তি:
- রচনার সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য বক্রতা বা মনোহর ভঙ্গি দ্বারা উক্তি সম্পন্ন হলে তাকে বক্রোক্তি বলে।
- সোজাসুজি না বলে বাঁকাভাবে কোনো বক্তব্য প্রকাশ পেলে তা হয় বক্রোক্তি।
- যেমন:
- গৌরী সেনের আবার টাকার অভাব কী।- এখানে টাকার অভাব নেই ভাবটি বাঁকাভাবে ব্যক্ত হয়েছে।
- বক্রোক্তি দুই ধরনের-
১. শ্লেষ বক্রোক্তি ও
২. কাকু বক্রোক্তি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
রেফারেন্স মাত্র
বাংলা বিষয়ের আরও প্রশ্ন