মূল বিষয়বস্তুতে যান

বাংলা পুঁথি সাহিত্যের উদাহরণ কোনটি?

সঠিক উত্তর

আমীর হামজা

সঠিক উত্তর: আমীর হামজা

এবার দেখা যাক এই প্রশ্নের উত্তরটা দিতে পারেন কিনা।

ভুল বা সঠিক হলে সাথে সাথেই ব্যাখ্যা সহ উত্তর দেখতে পারবেন।

বাংলা ১ নম্বর

রুখের তেন্তলি কুমীরে খাই’- এর অর্থ কি?

বাংলা বিষয়ে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১০ মার্কের MCQ কুইজ

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

বাংলা পুঁথি সাহিত্যের উদাহরণ- আমীর হামজা।
---------------------
• আমীর হামজা:
- ফকির গরীবুল্লাহ রচিত আমীর হামজা মধ্যযুগের দোভাষী পুঁথিসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ। এটি মূলত হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পিতৃসমতুল্য বীর যোদ্ধা আমীর হামজার বীরত্ব, যুদ্ধবিগ্রহ, রাজ্যজয় এবং ইসলাম ধর্ম প্রচারের কাহিনী নিয়ে রচিত। কাব্যটি ফারসি দাস্তান-ই-আমীর হামজা অনুসরণ করে লেখা হয়েছে এবং মোট ৭০টি পর্বে সমাপ্ত। এর প্রথম অংশ আঠারো শতকের মধ্যভাগে ফকির গরীবুল্লাহ লিখেন, পরবর্তীতে তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা ১৭৯৪ সালে বাকি অংশ সম্পূর্ণ করেন। কাব্যটির কেন্দ্রীয় চরিত্র আমীর হামজা, যিনি ইরানের অধিপতি নওশেরোয়ানের সঙ্গে যুদ্ধ ও বিরোধের মধ্য দিয়ে ইসলামের প্রচার ও বীরত্বের প্রমাণ দেখান। পাশাপাশি কাব্যটিতে রাজা-রাজাদের পরাজয়, প্রেম ও রোমান্স, এবং রাজ্যশাসনের অনুমতির ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে।
-------------------------------
পুঁথি সাহিত্য:
- অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধ থেকে উনিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত মুসলিম সমাজে যে কাব্য রচিত হয়, তাকে পুঁথি সাহিত্য বলা হয়।
- এই সাহিত্যে মূলত বাংলা ভাষার সঙ্গে আরবি, ফারসি, হিন্দি ও উর্দুর মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।
- অনেক সময় কলকাতার সস্তা ছাপাখানায় এটি মুদ্রিত হতো, এজন্য কেউ কেউ এটিকে বটতলার পুঁথি নামেও উল্লেখ করেছেন।
- পুঁথি সাহিত্যের প্রধান রচয়িতা ও পাঠকই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়।
- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুর অঞ্চলের কবি ফকির গরীবুল্লাহ এই ধারার প্রাচীনতম ও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করে পুঁথি সাহিত্য শুরু করেন।
- যেহেতু এতে একাধিক ভাষার সংমিশ্রণ ঘটে, তাই এটিকে অনেক সাহিত্যবিশারদ দোভাষী পুঁথি সাহিত্য হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
------------------------
অন্যদিকে,
- নূরনামা:
- নূরনামা মধ্যযুগের একজন প্রধান কবি আবদুল হাকিম রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের এই কবি তার কাব্যে মাতৃভাষা এবং স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। কাব্যগ্রন্থটির মধ্যে 'বঙ্গবাণী' নামক বিখ্যাত কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

- গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস:
- গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস একটি মধ্যযুগের আখ্যানকাব্য যা রাজা গোপীচন্দ্রের সংসার ও রাজ্য ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণের গল্প বর্ণনা করে। মা ময়নামতীর পরামর্শে গোপীচন্দ্র অমরত্ব লাভের উদ্দেশ্যে বারো বছরের জন্য সন্ন্যাসী হন। কাব্যটি নাথধর্ম, যোগী সাধনা, বৌদ্ধ ও সুফি ভাবধারার মিশ্রণে রচিত, যার মধ্যে চর্যাগীতির প্রভাব লক্ষণীয়। এটি মূলত যোগী ও নাথ সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জীবন তুলে ধরে। এটি উত্তরবঙ্গের কৃষি সমাজে 'যোগীর গান' হিসেবে প্রচলিত ছিল।

- মহুয়ার পালা:
- মহুয়ার পালা ১৬৫০ সালের দিকে দ্বিজ কানাই রচিত একটি রোমান্টিক ট্র্যাজেডি আখ্যান। বেদে কন্যা মহুয়া এবং বামনকান্দার জমিদার দেওয়ান নদের প্রেমকে কেন্দ্র করে গল্প আবর্তিত হয়। তাদের সম্পর্ক সামাজিক বাধার কারণে বিঘ্নিত হয় এবং কাহিনীটি ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়। কাব্যটি স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতি ও রোমান্টিক ভাবধারার চমৎকার উদাহরণ হিসেবে মূল্যবান। এটি সংগ্রহ করেছেন দীনেশচন্দ্র সেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

সকল অপশন

রেফারেন্স মাত্র

  1. আমীর হামজা সঠিক
  2. নূরনামা
  3. গুপি চন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. মহুয়া

প্রশ্ন তথ্য

বিষয়
বাংলা
শ্রেণী
শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন - প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ
মার্ক
1.00

বাংলা বিষয়ের আরও প্রশ্ন

  1. 1

    রুখের তেন্তলি কুমীরে খাই’- এর অর্থ কি?

  2. 2

    “আসমান” কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?

  3. 3

    জিজীবিষা শব্দটির অর্থ কি?

  4. 4

    “সপ্তকাণ্ড রামায়ন” বাগধারার অর্থ কি?

  5. 5

    “Attested” শব্দের বাংলা পরিভাষা কি?

মেধাবী অ্যাপ

৪.৯ · বিনামূল্যে
ইনস্টল