ক্যালসিয়াম কার্বাইট কলা পাকানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ক্যালসিয়াম কার্বাইট : ফল বিশেষত
কলা পাকানোর জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি একটি যৌগ যা জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাস উৎপন্ন হয়- যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
ফরমালিন : ফরমালিন খাদ্য সংরক্ষণের রাসায়নিক যৌগ নয়। ফরমালিন একটি বিষাক্ত এবং ক্যান্সার উৎপাদক রাসায়নিক পদার্থ। দুধ, ফল, মাছ, মাংসকে পচন থেকে রক্ষা করার জন্য অতি লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা না বুঝে ব্যবহার করে থাকেন। এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া, ক্যান্সার, বদহজম, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, পেটের পীড়াসহ নানরকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। মেয়েদের গর্ভপাত এমনকি সন্তান বিকলাঙ্গ পর্যন্তহতে পারে । যার পরিণতিতে যন্ত্রণাদায়ক অকাল মৃত্যু হতে পারে। ফরমালিন ব্যবহার খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অসততা ও অসচেতনতার কারণে ফরমালিনের ব্যবহার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ইথিলিন (Ethylene) : ফল নিজেই ইথিলিন তৈরি করে এবং পাকতে সাহায্য করে। ফল সৃষ্ট ইথিলিনকে ফলের হরমোন বলা হয়। কিন্তু একসঙ্গে ফল পাকাতে সারা বিশ্বে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তখন ইথিলিনকে Ripeing agent বলা হয়। আমাদের দেশে অপরিপক্ক ফল পাকাতে ইথিলিন গ্যাস তৈরি করে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে। তাতে ফল সুমিষ্ট হয়। অতি অপরিপক্ক ফলে ইথিলিন ব্যবহার করা উচিত নয়। আম, কলা, পেঁপে, টমেটো ইত্যাদি পাকানোর জন্য ব্যবহার করলে অন্তত ৭-৮ দিন পর তা বাজারজাত করা উচিত।
কালটার (Culter) : এটি একটি হরমোন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ। গাছে থাকা অবস্থায় এটি আমে প্রয়োগ করা হয়। এতে ফল দ্রুত পরিপক্ক হয় অথচ না পেকেই দীর্ঘদিন গাছে থাকে। ফলে, ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে বিক্রি করার সুযোগ পায়। কালটার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
সূত্র: ২৭ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।