পূর্ববঙ্গ জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ ১৯৫০: - ১৯৩৯ সালে ফ্রান্সিস ফ্লাউড-কে চেয়ারম্যান করে ভূমি রাজস্ব কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়। - রাজস্ব আয়কারী সকল সম্পত্তি সরকার কর্তৃক হুকুমদখলের সুপারিশসহ এই কমিশন ১৯৪০ সালে তার প্রতিবেদন পেশ করে। - দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল প্রণয়ন করে ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ তা প্রকাশ করা হয়। - এই কমিশনের সুপারিশমালার ওপর ভিত্তি করেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ পাশ হয়। - তারপর এই বিলটিকে আইন পরিষদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। - এই পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি পাস হওয়ার পর ১৬ মে ১৯৫১ সালে বিলে প্রয়োজনীয় অনুমোদনমূলক সম্মতি পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, - ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন। - কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি। - এমতাবস্থায় গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন। - ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত। - এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা। - এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। - নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে। ⇒ ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয়।