• সেন বংশ: ১০৯৫ থেকে ১২২৫ খ্রি: (আনুমানিক) বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর ক্ষমতাদখলের পালাবদলে বার শতকের দ্বিতীয় ভাগে সেন শাসনের সূচনা হয়। সেনদের পূর্বপুরষদের আদি বাস ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটকে।সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিমত লক্ষ্য করা যায়। যেমন:
- সামন্ত সেন: সামন্ত সেন কর্ণাটক থেকে এসে বাংলায় বসতি গড়েন। তিনি কোন রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় তাকে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বলা গেলেও সেন শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বলা সমীচিন না।
- হেমন্ত সেন: সামন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার ছেলে হেমন্ত সেন পাল রাজা রামপালের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। এজন্য অনেকেই তাকে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বলে আখ্যায়িত করে থাকেন।
- বিজয় সেন: হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন দেশে অরাজকতার সুযোগে সেন বংশের শাসনকে সুদৃঢ় করেন। ১০৯৫ থেকে ১১৫৮ পর্যন্ত তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করেন। অবশ্য তিনিও প্রথমে পাল রাজাদের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। পরবর্তীতে পাল রাজা রামপালকে বরেন্দ্র পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন এবং নিজের অবস্থান সুসংহত করেন এবং স্বাধীন ক্ষমতা লাভ করেন। এরপর রামপালের মৃত্যুর পর প্রায় সমগ্র বাংলাকে একত্র করে একটি একক রাজ্য এবং সেন বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এজন্য তাকেই মূলত: সেন বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলে মনে করা হয়। বিজয় সেনের পর সিংহাসনে আরোহন করেন বল্লাল সেন এবং তার মৃত্যুর পর ১১৭৯ থেকে ১২০২ মতান্তরে ১২০৪ পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন লক্ষণ সেন।এরপর ইখতিয়ার উদ্দীন বখতিয়ার খলজি বাংলা আক্রমণ করলে লক্ষণ সেন পালিয়ে যান এবং এভাবেই কার্যত বাংলায় সেন বংশের শাসনের অবসান ঘটে। পরবতীর্তে কেশব সেন অল্প কিছু অঞ্চলে সাময়িক সময়ের জন্য রাজত্ব করেছিলেন বলে জানা যায়। অবশ্য ১২২৫ পর্যন্ত লক্ষণ সেনের বংশধররা পূর্ব বাংলার কিছু অংশে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন এমনটি জানা যায়।