‘শবপোড়া' শব্দটিতে কী দোষ দেখা যায়?
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: গুরুচণ্ডালী
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: গুরুচণ্ডালী
ভুল বা সঠিক হলে সাথে সাথেই ব্যাখ্যা সহ উত্তর দেখতে পারবেন।
রুখের তেন্তলি কুমীরে খাই’- এর অর্থ কি?
চর্যাপদের মহিলা কবি কুকুরীপা কর্তৃক রচিত ২ নং পদ “দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই। রুখের তেগুলি কুম্ভীরে খাঅ॥” এর বাংলা অর্থ হলো: কচ্ছপকে দোহন করা দুগ্ধ পাত্রে ধরে না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়৷
বাংলা বিষয়ে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
১০ মার্কের MCQ কুইজএই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
• ‘শবপোড়া’ শব্দটিতে গুরুচণ্ডালী দোষ পরিলক্ষিত।
• তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
যেমন: শবপোড়া শব্দটিতে- তৎসম + দেশি শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে। তাই এটি অশুদ্ধ।
- শব্দটির শুদ্ধরূপ হলো- শবদাহ (তৎসম + তৎসম)।
----------------
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশি শব্দের প্রয়োগে সৃষ্ট কিছু গুরুচণ্ডালী দোষযুক্ত শব্দের উদাহরণ-
• মড়াদাহ (দেশি + তৎসম) = অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ রূপ- মড়াপোড়া (দেশি + দেশি)।
• গরুর শকট (দেশি + তৎসম) = অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ রূপ- গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি)।
- আবার, সাধু ও চলিত ভাষাকে একসাথে ব্যবহার করে বাক্যের স্বাভাবিকতা নষ্ট করাকেও গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।
- এর উদাহরণ- তিনি বড় বজ্জাত ভদ্রলোক।
- ‘তিনি বড় বজ্জাত ভদ্রলোক’- বাক্যটিতে ‘বজ্জাত’ (চলিত ভাষা) আর ‘ভদ্রলোক’ (সাধুভাষা) একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে।
- এখানে সাধু ও চলিত ভাষার অপ্রয়োজনীয় মিশ্রণ ঘটেছে, তাই বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষযুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে,
----------------------
• উপমার ভুল প্রয়োগ:
- উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটে যখন তুলনা অপ্রাসঙ্গিক, বেমানান বা অযৌক্তিক হয়।
- উপমার ভুল প্রয়োগ বাক্যের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে।
- উপমার ভুল প্রয়োগে অর্থ বোঝায় অসুবিধার সৃষ্টি হয়।
- যেমন- “বিরাট গরু-ছাগলের হাট"- বাক্যটিতে উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- কারণ, বিরাট উপমাটি গরু-ছাগলের সাথে বেমানান তুলনা।
- সঠিক প্রয়োগ হবে যখন বলা হবে- 'গরু-ছাগলের বিরাট হাট'।
- 'গরু-ছাগলের বিরাট হাট'- এই বাক্যটিতে বিরাট উপমাটি হাটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
• দুর্বোধ্যতা:
- দুর্বোধ্যতার কারণে বাক্য তার যোগ্যতা হারাতে পারে।
- যদি বলা হয়- তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছ তাহলে এখানে প্রপঞ্চ শব্দটি দুর্বোধ্যতার সৃষ্টি করে।
- সঠিক প্রয়োগ হবে- তুমি আমার সাথে ধোঁকাবাজি করেছ।
• বাহুল্য দোষ:
- বাহুল্য দোষ হলো বাক্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ বা একই অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা।
- উদাহরণস্বরূপ, "সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত", এতে বাহুল্য দোষ রয়েছে, কারণ "সকল" এবং "আলেমগণ" একই অর্থ প্রকাশ করে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
রেফারেন্স মাত্র
বাংলা বিষয়ের আরও প্রশ্ন