• 'অমরকোষ' হলো একটি প্রসিদ্ধ সংস্কৃত অভিধান যা প্রাচীন ভারতে রচিত এবং সবচেয়ে বিখ্যাত অভিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি রচনা করেছিলেন অমরসিংহ,যিনি ষষ্ঠ শতকের বুদ্ধিজীবী এবং উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের একজন ছিলেন।
প্রধান বৈশিষ্ট্য: নাম: অমরকোষের প্রকৃত নাম "নামলিঙ্গানুশাসন" হলেও এটি অমরকোষ নামেই অধিক পরিচিত। গঠন: এটি তিনটি ভাগে বিভক্ত, যা একত্রে ত্রিকান্ড নামে পরিচিত। তিনটি খণ্ডে বিভক্ত বলে একে ত্রিকান্ডী বলেও ডাকা হয়। মহাকোষ: এই অভিধান মূলত নাম, লিঙ্গ এবং লিঙ্গবাচক শব্দের উপর ভিত্তি করে রচিত এবং সংস্কৃত ভাষার শব্দের বিশদ অর্থ এবং ব্যাখ্যা দেয়।
পণ্ডিতদের টীকা: অনেক পণ্ডিত অমরকোষের উপর টীকা লিখেছেন, যেমন: - লিঙ্গ ভট্ট (দশটীকা), - সুভূতিচন্দ্র (কামধেনু টীকা), - সর্বানন্দ (টীকাসর্বস্ব), - ক্ষীরস্বামী প্রমুখ। - ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদ: অমরকোষ ফার্সি, ইংরেজি এবং জার্মানসহ অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য সংস্করণ: হেনরি টমাস কোলব্রুক ১৮০৮ এবং ১৮২৫ সালে কলকাতা থেকে অমরকোষের একটি সংস্করণ প্রকাশ করেন। চিন্তামণি শাস্ত্রী থাট্টে ও কিয়েন হর্ন ১৮৭৭ সালে মহেশ্বর-ভাষ্যসহ আরেকটি সংস্করণ বোম্বাই থেকে প্রকাশ করেন।
অমরসিংহ সম্পর্কে: পণ্ডিতরা মনে করেন, অমরসিংহ ছিলেন ৬ষ্ঠ শতকের মধ্যবর্তী সময়ের বুদ্ধিজীবী। তিনি উজ্জয়িনীর মহারাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের অন্যতম ছিলেন। এই তথ্য অনুযায়ী অমরকোষ সংস্কৃত ভাষার প্রচলিত ও প্রাচীনতম অভিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এর প্রভাব সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষায় ব্যাপকভাবে পড়েছে।
রেফারেন্স: - বাংলাপিডিয়া - অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও প্রবন্ধ (যেমন ডেইলি স্টার, জনকণ্ঠ)।