• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান প্রথম, প্রথমা, পহেলা ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।
- এগুলো আবার সংক্ষিপ্তরূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
• ১১-১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত দুই রকম।
যেমন: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম।
এভাবে- ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম, সপ্তদশ (১৭শ) সতেরোতম-অষ্টাদশ পর্যন্ত।
• ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু ‘তম’ প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম, বিংশতম, অশীতিতম, নবতিতম ইত্যাদি।
• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন- প্রথমা, দ্বিতীয়া, অষ্টমী, নবমী, দশমী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী, ষোড়শী ইত্যাদি।
------------------------
• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই) ইত্যাদি।
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।
-------------------------
• ভগ্নাংশ পুরণবাচক শব্দ:
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।