গুপ্ত সাম্রাজ্য: - ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে। - শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ। - এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল। - তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে । - এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
⇒ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। - প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে। - এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’। - গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
⇒ এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শ্রীগুপ্তের কথা বলা হলেও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে। - তাঁর উপাধি ছিল মহারাজাধিরাজ। - গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয় সমুদ্রগুপ্তকে। - তিনি সমগ্র বাংলা জয় করেন। - তাঁকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন বলেও অভিহিত করা হয়।
⇒ সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল। - সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি ‘প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।
⇒ গুপ্তদের সময় রাজতন্ত্র ছিল সামন্তনির্ভর। - এদের রাজাদের অধীনে বড় কোনো অঞ্চলের শাসককে বলা হতো মহাসামন্ত।
⇒ মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর। - হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
উৎস: i) ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।